বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন
EN
শিরোনাম
রূপপুরে চুল্লিতে দেওয়া হলো ইউরেনিয়াম, বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারকারী দেশ বাংলাদেশ। বরিশালে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস’ অনুষ্ঠিত বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন নবাগত বিভাগীয় কমিশনার বরিশাল বিভাগের নবাগত বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ এর যোগদান জেলা প্রশাসন বরিশালের আয়োজনে যথাযথ মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস ও বিজয় মেলা ২০২৫ উদ্বোধন। আশুরা পালনে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই আলোচিত এসএই মহিউদ্দিন মাহি ডিবির পরিচয় খাটিয়ে রাতের আঁধারে পুকুর ভরাট অভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে জুলাই সনদ প্রকাশ করবো: প্রধান উপদেষ্টা করোনায় দুজন মারা গেছেন, শনাক্ত ১৮ বরিশাল শেবাচিমে চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি

রূপপুরে চুল্লিতে দেওয়া হলো ইউরেনিয়াম, বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারকারী দেশ বাংলাদেশ।

রিপোর্টারের নাম / ৭ টাইম ভিউ
হালনাগাদ : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

‎মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্বে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।

জ্বালানি প্রবেশ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, ‘আজ ঐতিহাসিক মুহূর্ত। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পটির কাজ করা হয়েছে। আজ জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতিহাসের অংশ হলো। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ শুধু পাবনা নয়, দেশের অর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।’

রেহান আসিফ আসাদ বলেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি বাস্তব উদাহরণ, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তার ভাষায়, এ প্রকল্প দেশের জন্য জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনের পথে দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করছে।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

আলোচনা শেষে অতিথিরা স্বয়ংক্রিয় সুইচ টিপে জ্বালানি লোডিং উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন পর্ব শেষে অতিথিরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়ার পর এখন পরবর্তী ধাপের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে; যা দেশকে চূড়ান্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে নিয়ে যাবে।

জানা যায়, চুল্লিপাত্রে ইউরেনিয়াম জ্বালানি বসানো হলে তা থেকে তাপ তৈরি হবে। সেই তাপে পানি থেকে বাষ্প তৈরি হয়ে টারবাইন ঘুরবে আর সেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। পাবনার রূপপুরে নির্মিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হলো আজ।

এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলছে, বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এটি চূড়ান্ত ধাপ। ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুতের উৎপাদন শুরু হবে। আগামী আগস্টে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের ২টি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট।

ফুয়েল লোডিং প্রক্রিয়া

ইউরেনিয়াম ফুয়েল লোডিং হল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লি বা রিঅ্যাক্টর কোরে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানোর অত্যন্ত সংবেদনশীল ও চূড়ান্ত কারিগরি প্রক্রিয়া।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা, গ্যাস বা তেলের বদলে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়ামের ছোট ছোট পেলেট ব্যবহার করা হয়, যার প্রতিটি সাড়ে চার থেকে পাঁচ গ্রাম ওজনের হয়ে থাকে।

এই পেলেটগুলোকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে জিরকোনিয়াম অ্যালয় দিয়ে তৈরি টিউবের ভেতর সাজিয়ে ‘ফুয়েল অ্যাসেম্বলি’ তৈরি করা হয়।

এই অ্যাসেম্বলিগুলোকে রিঅ্যাক্টরের ভেতর স্থাপন করার প্রক্রিয়াই হল ফুয়েল লোডিং। এটি সম্পন্ন হওয়ার পরই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ফিশন বা চেইন রিঅ্যাকশন (চুল্লিতে তাপ উৎপাদন) শুরু করা সম্ভব হয়।

ফুয়েল লোডিং একটি অত্যাধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া। একটি বিশেষ ‘ফুয়েল লোডিং মেশিন’ বা রিফুয়েলিং মেশিনের সাহায্যে এই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে এ প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন হবে।

অনুমোদিত নিরাপত্তা কার্যপ্রণালী মেনে, রাশিয়ান ফেডারেশনের (রোসাটম) বিশেষজ্ঞদের সরাসরি সহায়তায় রূপপুর প্রকল্পের জন্য প্রশিক্ষিত ও যোগ্য বাংলাদেশি অপারেটর এবং ফুয়েল হ্যান্ডলাররা এই লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন।

আসল ইউরেনিয়াম জ্বালানি ভরার আগে রিঅ্যাক্টরের সব সিস্টেম, পরিবহন সরঞ্জাম এবং লোডিং যন্ত্রপাতি ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা যাচাই করতে ‘ডামি ফুয়েল’ (আসল জ্বালানিহীন ডামি অ্যাসেম্বলি) দিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সফলভাবে পরীক্ষা ও মহড়া চালানো হয় । তার আগের বছর নভেম্বরে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের চালান বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়।

ফুয়েল লোডিংয়ের সময় রিঅ্যাক্টরের ভেতরের অংশ বা রিঅ্যাক্টর ভ্যাসেল পানিতে পূর্ণ রাখা হয়, কারণ পানি বিকিরণ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

রিফুয়েলিং মেশিনের সাহায্যে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি একে একে রিঅ্যাক্টর কোরের ভেতর নির্ধারিত স্থানে বসানো হবে।

প্রতিটি অ্যাসেম্বলি কোথায় বসবে, তা আগেই নির্ধারিত থাকে। এই বিন্যাস বা কোর কনফিগারেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রিঅ্যাক্টরের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নির্ধারণ করে।

ফুয়েল বসানোর পর কন্ট্রোল রড (যা ফিশন রিয়্যাকশন নিয়ন্ত্রণ করে) সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে।

১৬৩টি অ্যাসেম্বলি রিঅ্যাক্টর কোরে সফলভাবে লোড করার পর কেন্দ্রটিকে ‘মিনিমাম নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতায়’ আনা হবে। এই পর্যায়টিকে ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি বলা হয়, যেখান থেকে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হবে।

প্রকল্পের প্রযুক্তিগত দিক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শৌকত আকবর বলেন, প্রতিটি অ্যাসেম্বলি চার দশমিক ছয় মিটার বা ১৫ ফুট দীর্ঘ, ওজন প্রায় ৭৫০ কেজি। প্রতিটি অ্যাসেম্বলিতে প্রায় ৫৩৪ কেজি ফুয়েল ব্যবহার করা হয়। রিঅ্যাক্টরে ব্যবহৃত প্রতিটি ইউরেনিয়াম পেলেটের ওজন মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ গ্রাম হলেও এর শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা অবিশ্বাস্য। একটি মাত্র পেলেট থেকে প্রায় একটন কয়লার সমপরিমাণ শক্তি পাওয়া যাবে।

এই পেলেটগুলো কোনো বিষাক্ত ধোঁয়া বা কার্বন নিঃসরণ ছাড়াই একটি সাধারণ পরিবারের কয়েক মাসের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জ্বালানি লোডিংয়ের পুরো প্রক্রিয়াটিতে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে। বিশেষায়িত ফুয়েল লোডিং মেশিন ব্যবহার করে একে একে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি কোরে বসানো হবে বলে জানান তিনি।

এই সময় পুরো সিস্টেমটি ‘সাব-ক্রিটিক্যাল’ অবস্থায় থাকবে এবং সার্বক্ষণিক নিউট্রন মনিটরিং সিস্টেম চালু থাকবে যাতে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

এর আগে, ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আকাশপথে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান ঢাকায় পৌঁছায়। এরপর আরও কয়েকটি চালান  আসে। বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সড়কপথে অক্টোবরে রূপপুরে নিয়ে যাওয়া হয় জ্বালানি। এরপর এটি মজুত করে রাখা হয়েছিল রূপপুরে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ:

বরিশাল-৮২০০।

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:

নিউজ রুম মোবাইল:: 0088-01719-390602, 0088-01818-323306

editor@chandradvip24.com(সম্পাদক)
editor@chandradvip24.com(নিউজ)
editor@chandradvip24.com(নিউজ)
২০২২ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত chandradvip24.com